উস্তাযুল উলামা হযরত মাওলানা ইকরামুল হক একজন প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষক ও ইসলামী জ্ঞানচর্চায় নিবেদিত ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী শিক্ষার প্রচার-প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীর মাঝে দ্বীনি জ্ঞান ও ইসলামী মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, শিক্ষাদান ও দ্বীনি খেদমতের মাধ্যমে তিনি ইসলামপ্রেমী মানুষের কাছে সমাদৃত। ইসলামী শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজে কুরআন-সুন্নাহর সঠিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়াই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য ও সাধনা।
মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ একজন শিক্ষক ও ইসলামী জ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে ঢাকার মাদ্রাসা জামালুল কুরআন-এ শিক্ষকতা করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষা, কুরআন ও ইসলামী জ্ঞান প্রচার-প্রসারে কাজ করে যাচ্ছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি লেখালেখির মাধ্যমেও জ্ঞান ও চিন্তার আলো মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর লেখায় ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা এবং মানবজীবনের কল্যাণকর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
test - শায়খ সালিহ আহমাদ শামী
মাওলানা ছানাউল্লাহ জামালী একজন একাধিকবার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত এরাবিক স্কলার, লেখক, কলামিস্ট ও ইসলামী গবেষক।ইসলামের ইতিহাস, সীরাত ও ঐতিহাসিক ভূগোল নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অধ্যয়ন, গবেষণা ও লেখালেখি করে আসছেন। বাংলাদেশে জু'মার বয়ানে বোর্ডে মানচিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি উপস্থাপনের তিনি প্রথম উদ্যোক্তা। তাঁর উপস্থাপনার বিশেষত্ব হলো—জটিল ঐতিহাসিক বিষয়কে মানচিত্র, স্থান ও ঘটনার পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সহজ ও জীবন্ত করে তোলা। ইসলামের ইতিহাস ও সীরাতকে নতুন আঙ্গিকে পাঠকের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই ২০২৪ সালে তাঁর প্রথম মানচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘নবীজি (স.)-এর হিজরতের মানচিত্র’ প্রকাশিত হয়। তাঁর লেখনী ও গবেষণার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো—ইসলামের ইতিহাসকে শুধু পাঠের বিষয় না রেখে তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ ও বাস্তব জীবনে প্রয়োগের উপযোগী করে তোলা।
আল্লাহর পথের এক মহান দাঈ,ইলমে ওহীর বাতিঘর যুগশ্রেষ্ঠ মনীষী। খাঁটি আরব রক্তের গর্বিত বাহক।বিশ্বময় হেদায়েতের রোশনি বিকিরণকারী।উম্মতের রাহবর ও মুরুব্বি। কল্যাণের পথে আহ্বানে চিরজাগ্রত কর্মবীর। জন্ম ১৯১৪ ঈসাব্দে। ভারতের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিকতার সূতিকাগার উত্তর প্রদেশের রাজধানী লাখনৌর রায়বেরেলীতে। প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া আদ্যোপান্তই দারুলউলুম নদওয়াতুল উলামায়। অধ্যাপনা জীবনের সিংহভাগও এই প্রতিষ্ঠানে নিবেদিত ছিলেন। আল্লামা নদভীর খ্যাতির সূচনা হয় বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে "সীরাতে সাইয়েদ আহমদ শহীদ" রচনার মাধ্যমে।গ্রন্থটি গোটা ভারতবর্ষে তাকে পরিচিত করে তুলে।এরপর তিনি রচনা করেন 'মা যা খাসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমিন' (মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারাল) নামক কালজয়ী গ্রন্থ।যা তাকে প্রথমত আরববিশ্বে ও পরবর্রতীতে বৈশ্বিক সুখ্যাতি এনে দেয়। এ পর্যন্ত গ্রন্থটির শতশত সংস্করণ বের হয়েছে। বিগত প্রায় পৌনে এক শতাব্দী ধরে তার কলম অবিশ্রান্তভাবে লিখেছে মুসলিম ইতিহাসের গৌরদীপ্ত অধ্যায়গুলোর ইতিবৃত্ত। সীরাত থেকে ইতিহাস, ইতিহাস থেকে দর্শন ও সাহিত্য পর্যন্ত সর্বত্রই তার অবাধ বিচরণ। উর্দু থেকে তার আরবী রচনায় যেন অধিকতর অনবদ্য। আল্লামা নদভী জীবনে যেমন পরিশ্রম করেছেন, তেমনি তার শ্বীকৃতিও পেয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের নোবেল হিসেবে খ্যাত বাদশাহ ফয়সাল আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন।১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে দুবাইয়ে তিনি বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব নির্বাচিত হন।১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের পক্ষ থেকে আলী নদভীকে সুলতান ব্রুনাই এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক বহু ইসলামী প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সদস্য ছিলেন। তিনি একাধারে রাবেতায়ে আলমে ইসলামী এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক সেন্টারের সভাপতি ছিলেন। লাখনৌর বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুলউলুম নাদওয়াতুল-উলামা' এর রেকটর ও ভারতীয় মুসলনমানদের ঐক্যবদ্ধ প্লাটফরম মুসলিম পারসোন্যাল ল' বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। ইসলামের এই মহান সংস্কারক ১৯৯৯ সনের ৩১ ডিসেম্বর জুমার আগে সুরা ইয়াসিন তেলাওয়াতরত অবস্থায় ইন্তিকাল করেন।
মাওলানা যুলফিকার আহমদ নকশবন্দী (জন্ম ১ এপ্রিল ১৯৫৩) একজন পাকিস্তানি ইসলামি পণ্ডিত এবং নকশবন্দী তরিকার সুফি ব্যক্তিত্ব। তিনি পাঞ্জাব প্রদেশের ঝং জেলায় ‘মাহদুল ফাকির আল ইসলামী’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর আধ্যাত্মিক আলোচনা ও জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতার মাধ্যমে তিনি সুপরিচিত। ২০১১ সালে ভারত ভ্রমণের সময় হায়দরাবাদের বিভিন্ন সম্মেলনে তাঁর ভাষণ তাঁকে ব্যাপক খ্যাতি এনে দেয়। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের মসজিদে রশিদ এবং দারুল উলুম ওয়াকফ দেওবন্দের অনুষ্ঠানেও বক্তব্য রাখেন। তাঁর জীবন ও কাজ আধ্যাত্মিকতা এবং ইসলামি জ্ঞানচর্চার প্রতি তাঁর গভীর নিবেদনকে প্রতিফলিত করে।
মাওলানা আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী মুহাজিরে মাদানী রহ. (১৯২৫—২০০২) দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামী চিন্তা-চেতনা ও ফিকহী-ঐতিহ্যের ধারক- বাহক এবং অন্যতম বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি শাইখুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রহ.-এর প্রখ্যাত শিষ্য এবং দারুল উলূম করাচির দারুল ইফতা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। ১৯২৫ সালে উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরে জন্মগ্রহণ করে তিনি মাদরাসা ইমদাদিয়াহ মুরাদাবাদ, জামে মসজিদ আলীগড় এবং মাযহারুল উলূম সাহারানপুরে শিক্ষা গ্রহণ করেন। উচ্চতর শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি ফিরোজপুর ঝিরকা, মুরাদাবাদ ও কলকাতার বিভিন্ন মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি দারুল উলূম করাচিতে যোগদান করেন এবং ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেখানে হাদীস-তাফসির পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন।তাঁর রচিত ৭৫ টিরও অধিক গ্রন্থে ইসলামী সমাজতত্ত্ব, পারিবারিক নীতি, ফিকহ, আখলাক ও আত্মশুদ্ধির বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ হলো— তোহফা-ই-খাওয়াতীন, মারনে কে বাদ কেয়া হোগা, ইসলামী আদাব, হক্কুল ওয়ালিদাইন, আনওয়ারুল বয়ান, যাদুত তালিবিন ইত্যাদি।মাওলানা আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. জীবনের শেষ পর্বে মদিনায় হিজরত করেন এবং প্রায় পঁচিশ বছর সেখানে অবস্থান করেন। ২০০২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং উনাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।
মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী (জন্ম ১৯৪৩, দেওবন্দ, ভারত) একজন প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব, যিনি একাধারে ইসলামি ফিকহ, হাদীস, তাসাউফ ও অর্থনীতির বিশেষজ্ঞ হিসেবে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ১৯৪৭ সালে তাঁর পরিবার পাকিস্তানে স্থায়ী হয়। শিক্ষাজীবনে তিনি দারুল উলূম করাচি থেকে ফিকহ ও ফতোয়ার উপর সর্বোচ্চ ডিগ্রি এবং দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। এছাড়াও তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি, আইনশাস্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি ভাষা ও সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চের বিচারক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মুফতী তকী উসমানী আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্য এবং পাকিস্তানে 'মিজান ব্যাংক' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামি অর্থনীতি প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। তিনি উর্দু, আরবি ও ইংরেজি ভাষায় ৬০টিরও অধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন।
জায়নাব আল গাজালি (২ জানুয়ারি ১৯১৭ – ৩ আগস্ট ২০০৫) ছিলের একজন মিশরীয় রাজনীতিক ও নারী অধিকার কর্মী। তার পিতা ছিলেন আল-আজাহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা শিক্ষিত তুলা ব্যবসায়ী। তিনি ইসলাম এবং কু'রানের ব্যবহারিক জ্ঞানের মাধ্যমে "অভ্যাসশিক্ষার ধারণায়" বিশ্বাস করতেন এবং অনুভব করতেন যে ইসলামের আরো ঘনিষ্ঠ উপলব্ধির মাধ্যমে নারী মুক্তি, অর্থনৈতিক অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার ইত্যাদি অর্জন করা যেতে পারে।
মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইল, যিনি 'ইসমাইল রেহান' নামে পরিচিত, ১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি করাচিতে জন্মগ্রহণ করেন। দেশভাগের সময় তাঁর পূর্বপুরুষেরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাকিস্তানে হিজরত করেন। প্রাথমিক দ্বীনিয়াত শিক্ষা মায়ের কাছে গ্রহণের পাশাপাশি তিনি স্থানীয় স্কুল থেকে ১৯৮৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। এরপর তিনি দারুল উলুম করাচীতে ভর্তি হন এবং জামেয়া মা’হাদুল খলীল আল ইসলামিয়া থেকে ১৯৯৫ সালে তাকমীল (মাস্টার্স সমমানের ডিগ্রি) সম্পন্ন করেন। এই সময়ে তিনি আল্লামা আবদুর রশীদ নু’মানীর সান্নিধ্য লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে বি.এ. (সম্মান) এবং ২০১০ সালে উর্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি দীর্ঘ দুই দশক ধরে শিক্ষকতা করছেন। ‘যরবে মুমিন’ ও ‘রোজনামা ইসলাম’ পত্রিকায় কলাম লিখে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি মাসিক সুলূক ও ইহসান, বাচ্চাদের পত্রিকা ‘বাচ্চোঁ কা ইসলাম’ এবং নারীদের পত্রিকা ‘খাওয়াতিন কা ইসলাম’-এর সম্পাদনার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
প্রখ্যাত ইসলামি ব্যক্তিত্ব শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী শুধু ইসলামের নানা বিষয় নিয়ে বই রচনা করেননি, তিনি একাধারে ইসলামি ফিকহ, হাদীস, তাসাউফ ও ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ। আর তা-ই নয়, তিনি একজন বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় শরীয়াহ আদালতে, এমনকি পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের শরীয়াহ আপিল বেঞ্চেরও বিচারক পদে আসীন ছিলেন। মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী ভারতের উত্তর প্রদেশের দেওবন্দে ১৯৪৩ সালের ৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুটি আলাদা রাষ্ট্রে পরিণত হলে তার পরিবার পাকিস্তানে চলে আসে এবং এখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। শিক্ষাজীবনে তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে ইসলামি নানা বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়েও শিক্ষা নিয়েছেন। তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, যেখান থেকে অর্থনীতি, আইনশাস্ত্র ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন। আর পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাভ করেছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্যে এম.এ. ডিগ্রি। দারুল উলুম করাচি থেকে পিএইচডি সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেছেন ইসলামি ফিকহ ও ফতোয়ার উপর। সর্বোচ্চ স্তরের দাওয়া হাদিসের শিক্ষাও তিনি একই প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রহণ করেন। বিচারকের দায়িত্ব পালন ছাড়াও বিভিন্ন ইসলামি বিষয়, যেমন- ফিকহ, ইসলামি অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমির স্থায়ী সদস্যপদ রয়েছে তাঁর। পাকিস্তানে 'মিজান ব্যাংক' নামক ইসলামি ব্যাংকিং সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পাকিস্তানে ইসলামি অর্থনীতির প্রসারে তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি রচনা করেছেন অসংখ্য বইও। তকী উসমানীর বই এর সংখ্যা ৬০ এর অধিক। শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী এর বই সমূহ রচিত হয়েছে ইংরেজি, আরবি ও উর্দু ভাষায়। শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মদ তকী উসমানী এর বই সমগ্র এর মধ্যে 'Easy Good Deeds', 'Spiritual Discourses', 'What is Christianity?', 'Radiant Prayers' ইত্যাদি ইংরেজি বই, ও 'তাবসেরে', 'দুনিয়া মেরে আগে', 'আসান নেকিয়া' ইত্যাদি উর্দু বই উল্লেখযোগ্য। এসকল বই ইসলাম প্রসারে, এবং বিভিন্ন ইসলামি ব্যাখ্যা প্রদান ও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ড. রাগিব সারজানি (জন্ম ১৯৬৪, আল মুহাল্লা কুবরা, মিশর) একজন বিশিষ্ট ইসলাম প্রচারক, আধুনিক আরব লেখক ও ইতিহাসবিদ। পেশায় ইউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ হলেও, তিনি ইসলামি ইতিহাসের গভীর গবেষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৮ সালে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং এরপর একই বিষয়ে ১৯৯৮ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি, তিনি ১৯৯১ সালে সম্পূর্ণ কুরআনুল কারীম হিফজ করেন। কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের অধ্যাপক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং আন্তর্জাতিক মুসলিম উলামা পরিষদের সদস্য। ইসলামের ইতিহাস ও সভ্যতা নিয়ে তাঁর ৫৬টিরও বেশি মূল্যবান গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে 'কিসসাতুত তাতার' (তাতারীদের ইতিহাস), 'কিসসাতু উন্দুলুস' (স্পেনের ইতিহাস) এবং 'কিসসাতু তিউনুস' (তিউনেসিয়ার ইতিহাস) অন্যতম। ইসলামের প্রতি গভীর দরদ ও আগামীর স্বপ্ন তাঁর রচনায় মূর্ত হয়ে ওঠে।
আমি জাকারিয়া মাসুদ সত্যের আলাের সাথে পরিচিত হই ২০১১ সালে৷ লেখালিখির হাতেখড়ি ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে৷ সত্যের আলাে থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি, তা-ই ছড়িয়ে দেওয়ার ইচ্ছে থেকে লেখালিখিতে আসা৷ আমার প্রথম বই “সংবিৎ', দ্বিতীয় বই ‘ভ্রান্তিবিলাস', তৃতীয় বই ‘তুমি ফিরবে বলে। সহলেখক হিসেবে কাজ করেছি ‘সত্যকথন’ ও ‘প্রত্যাবর্তন' বই দুটোতে৷ আর... থাক না কিছু অজানা৷ আমাদের চারপাশে তাে কত ঘটনাই ঘটে যাচ্ছে, আমরা কি সবই জানি?
শাইখ মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ (জন্ম ৭ জুন ১৯৬০) সিরিয়ায় জন্মগ্রহণকারী একজন ফিলিস্তিনি-সৌদি ইসলামি পণ্ডিত। তিনি বিশ্বের জনপ্রিয় ফতোয়া ওয়েবসাইট IslamQA-এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ফিলিস্তিনি শরণার্থী হিসেবে আলেপ্পোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সৌদি আরবে বেড়ে ওঠেন। তিনি ইসলামের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পণ্ডিতদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। বিশেষত, শাইখ 'আব্দ আল-আযীয ইবনু বায, মুহাম্মাদ ইবনু আল-উসাইমীন, আবদুল্লাহ ইবনু জিবরীন এবং আব্দুল-রাহমান আল-বাররাক (রহ.)-এর মতো ব্যক্তিত্বদের সান্নিধ্যে তিনি ইসলামি আইনশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে তাঁর ফিকহ ও ফতোয়া ভিত্তিক কাজ বিশ্বব্যাপী মুসলিম সমাজে বিপুল প্রভাব ফেলেছে।
শাইখ মুহাম্মাদ আলী আস-সাবুনী (রহ.) – সংক্ষিপ্ত জীবনী শাইখ মুহাম্মাদ আলী আস-সাবুনী (রহ.) (১৯৩০–২০২১) ছিলেন সমকালীন বিশ্বের অন্যতম প্রখ্যাত মুফাসসির, গবেষক ও ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি সিরিয়ার আলেপ্পো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শাইখ জামীল আস-সাবুনী ছিলেন একজন খ্যাতিমান আলেম, যার কাছেই তিনি প্রাথমিক ইসলামি শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেন এবং তাফসির, হাদিস ও ইসলামি জ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর রচনাগুলো সহজ ভাষা, প্রামাণ্য আলোচনা ও গবেষণাধর্মী উপস্থাপনার জন্য মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক সমাদৃত। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ - সফওয়াতুত তাফাসীর (صفوة التفاسير) – তাঁর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থ। - রাওয়াইউল বায়ান ফি তাফসিরি আয়াতিল আহকাম (روائع البيان في تفسير آيات الأحكام)। - আন-নুবুওয়াহ ওয়াল আম্বিয়া (النبوة والأنبياء)। - আত-তিবইয়ান ফি উলূমিল কুরআন (التبيان في علوم القرآن)। - মুখতাসার তাফসিরে ইবনে কাসির (مختصر تفسير ابن كثير) – ইমাম ইবনে কাসির (রহ.)-এর তাফসিরের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। - মুখতাসার তাফসিরে আত-তাবারি (مختصر تفسير الطبري) – ইমাম তাবারি (রহ.)-এর তাফসিরের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। - মুখতাসার তাফসিরে আল-কুরতুবি (مختصر تفسير القرطبي) – ইমাম কুরতুবি (রহ.)-এর তাফসিরের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ। শাইখ মুহাম্মাদ আলী আস-সাবুনী (রহ.) ২০২১ সালে ইন্তেকাল করেন। তিনি তাফসিরশাস্ত্রকে সহজ ও সাধারণ পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর গ্রন্থসমূহ আজও বিশ্বের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদরাসা ও গবেষণা কেন্দ্রে সমানভাবে সমাদৃত।